কাশ্মীরের মেয়েদের সৌন্দর্য বা রূপের রহস্য কি

কাশ্মীর

কাশ্মীর অত্যন্ত সুন্দর এবং ঐতিহাসিক অঞ্চল, যা ভারতের উত্তর অঞ্চলে অবস্থিত। এটি ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। কাশ্মীর তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বরফে ঢাকা পাহাড়, ঝর্ণা, শালিমার বাগ এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কারুকাজের জন্য বিখ্যাত। কাশ্মীরকে পৃথিবীর স্বর্গ বলা হয়। এটি বিভিন্ন রাজবংশ এবং সংস্কৃতির প্রভাব বহন করে। কাশ্মীরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে, যেগুলো নিজেদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। যেমন - শ্রীনগর, গুলমার্গ, পাহলগাম, ইত্যাদি। 


পোস্টসূচীপত্রঃ শ্রীনগর – প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি দৃশ্য, হাউসবোট এবং শিকারা নৌকার জন্য বিখ্যাত। শ্রীনগরের বিশেষ আকর্ষণ সমূহ গুলো হলো - ডাল লেক, মুঘল গার্ডেন, প্রাচীন মন্দির, হযরতবাল মসজিদ, টিউলিপ বাগান, ইত্যাদি। এছাড়াও, শ্রীনগর হস্তশিল্প, পশমিনা শাল এবং কাশ্মীরি কার্পেটের জন্যেও প্রসিদ্ধ। 

গুলমার্গ – গুলমার্গ পির পাঞ্জাল পর্বত মালার কোলে অবস্থিত। গুলমার্গের বিশেষত্ব গুলো - স্কি রিসোর্ট, গুলমার্গ গন্ডোলা, গোলফ কোর্স, ইত্যাদি।

পাহলগাম – পাহলগাম কাশ্মীরের একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। পাহলগামকে "ভ্যালি অফ শেফার্ডস" নামেও ডাকা হয়। পাহলগামের প্রধান আকর্ষণ সমূহ - বেতাব ভ্যালি, আরু ভ্যালি, লিডার নদী, অমরনাথ যাত্রা, ইত্যাদি। 

কাশ্মীরের সাথে মুসলিমদের ধর্মীয় সম্পর্ক 

ধর্মীয় দিক দিয়ে মুসলমানদের কাছে কাশ্মীর গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। ১৬৩০ সালে মদিনা থেকে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাথার চুল এনে কাশ্মীরের একটি মসজিদে বিশেষ এক কাচের জারে রাখা হয়েছে। মসজিদ টির নাম হলো "হজরতবাল মসজিদ"। এই মসজিদ টি সাদা মার্বেলের তৈরি। 


কাশ্মীরের মেয়েদের রূপের রহস্য কি 

কাশ্মীরের সৌন্দর্য অসাধারণ। এখানকার জলবায়ু সর্বাধিক মনোমুগ্ধকর। স্পেনের পর সেরা জাতের জাফরান শুধুমাত্র কাশ্মীরেই পাওয়া যায়। জাফরান ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং ক্রমাগত ত্বকের স্তর উন্নত করে। কথিত আছে - "কাশ্মীরের মেয়েরা দুধে মিশ্রিত জাফরান এবং চন্দনের গুঁড়া মুখে ব্যবহার করে। এজন্যই কাশ্মীরের মেয়েরা এতটা সুন্দরী"। 


শ্রীনগরের শালিমার বাগ

আমরা সবাই জানি, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী নুরজাহানের জন্য আগ্রায় তাজমহল নির্মাণ করেছেন। কিন্তু মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ভালোবাসা শুধুমাত্র তাজমহলেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৬১৯ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী নুরজাহানের জন্য শ্রীনগরে শালিমার বাগ নির্মাণ করেছিলেন। 


এটি একটি সু-বিশাল বাগান। যার দৈর্ঘ্য ৫৩৯ মিটার এবং প্রস্থ ১৮২ মিটার। পুরো বাগান শীতকালে বরফে আচ্ছন্ন থাকে, আবার বসন্তকালে বাগানটি ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়। শালিমার বাগ কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। এখানে রয়েছে - পারস্য শৈলীর জলপ্রপাত ও ফোয়ারা, জেনানা গার্ডেন, চিনার গাছের সারি, সুন্দর পাথরের প্যাভিলিয়ন, ইত্যাদি। 

কাশ্মীরের ডাল লেক (Dal Lake)

ডাল লেক ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে অবস্থিত একটি বিখ্যাত লেক বা হ্রদ। এটা কে "শ্রীনগরের রত্ন" বলা হয়। ডাল লেকের আয়তন প্রায় ১৮ বর্গকিলোমিটার। ডাল লেকের প্রধান আকর্ষণ হলো - শিকারা রাইড, হাউসবোট, মুঘলবাগান সহ ইত্যাদি স্থান। 


ডাল লেকের স্থানীয় মানুষজনের জীবনযাপন ফ্লোটিং মার্কেট এবং মাছ ধরার উপর অনেকটা নির্ভরশীল। 

  • ফ্লোটিং মার্কেট – ফ্লোটিং মার্কেট হলো, পানির উপর ভাসমান বাজার। এখানে স্থানীয় মানুষেরা কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার, পোশাক/কাপড়, তাজা শাক-সবজি, ফলমূল, বিক্রি করেন।
  • মাছ ধরা – স্থানীয় জনগণ মাছ ধরে নিজেদের খাবার চাহিদা মেটায় পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। 

ডাল লেকে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় 

গ্রীষ্মকাল বা শীতকাল, উভয় সময়ই আপনি যেতে পারেন। গ্রীষ্মকালে (মে-আগষ্ট) ডাল লেকের সৌন্দর্য বেশি উপভোগ্য। কিন্তু, শীতকালে ডাল লেক জমে বরফে পরিণত হয়। চারিদিকে শুধু বরফ আর বরফ দেখা যায়, এটা আবার আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। তাই, আপনি আপনার পছন্দমতো বা সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো সময়ে ডাল লেক ভ্রমণ করতে পারেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এখানে কমেন্ট করুন

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪