কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা। কাঠ বাদাম পাতা যে কাজে ব্যবহার করা হয়

কাঠ বাদাম 

কাঠ বাদাম (Almond) এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Terminalia catappa। এটি Combretaceae পরিবারের অন্তর্গত। বৃহৎ আকৃতির গাছের ফল এটি। এই গাছের ফলের ভেতরে কয়েকটি বীজ থাকে। এই বীজগুলো কেই কাঠ বাদাম বলে। বীজগুলো দেখতে অনেকটা আখরোটের মতো। 


কাঠ বাদামের পুষ্টিগুণ

পোস্টসূচীপত্রঃকাঠ বাদাম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। কাঠ বাদামের পুষ্টিগুণ নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

  • ক্যালোরি - ৫৭৬
  • প্রোটিন - ২১ গ্রাম
  • ফ্যাট - ৪৯ গ্রাম 
  • কার্বোহাইড্রেট - ২২ গ্রাম
  • ফাইবার - ১২ গ্রাম
  • চিনি - ৩.৯ গ্রাম
  • ভিটামিন-ই - ২৫.৬ গ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম - ২৬৮ মিলিগ্রাম 
  • ক্যালসিয়াম - ২৬৪ মিলিগ্রাম 
  • পটাশিয়াম - ৭০৫ মিলিগ্রাম 
  • ফসফরাস - ৪৮২ মিলিগ্রাম 
  • জিংক এবং আয়রন 

কাঠ বাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম 

কাঠ বাদাম অনেকে অনেক ভাবে খেয়ে থাকে। তবে কাঠ বাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ দেওয়া হলোঃ

সকালে খালি পেটে ৪-৬ টি কাঠ বাদাম খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এটি শক্তি জোগায় এবং সারাদিন শরীর কে সক্রিয় রাখে। অনেকে স্ন্যাকস হিসেবেও কাঠ বাদাম খেয়ে থাকেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক না। অতিরিক্ত খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। 

কাঠ বাদাম খাওয়ার আগে ৬-৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এতে বাদাম নরম হয় এবং বাদামে ক্ষতিকারক ট্যানিনস দূর হয়। খালি পেটে ভেজানো বাদাম খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন। 

কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা 

কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটা খাবার। কাঠ বাদামের পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরে যেসব উপকার করে 


  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে – ভিজিয়ে খাওয়ার ফলে বাদামের বাইরের শক্ত আবরণ নরম হয়ে যায়। তাই সহজে হজম হয় এবং এর পুষ্টিগুণ আমাদের শরীর ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। 
  • হাড় মজবুত করে – কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খেলে বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন আমাদের শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে। এতে দেহে শক্তি বাড়ে এবং হাড় মজবুত করে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে – কাঠ বাদামে থাকা ভিটামিন-ই ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর রাখে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় – কাঠ বাদামে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। যা আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  • কোলেস্টেরল কমায় – কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খেলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং ভালো কলেস্টেরল বাড়ে।
  • মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে – ভিজানো কাঠ বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রোটিন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্মৃতি শক্তি বাড়ায়। 

কাঠ বাদাম খেলে কি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়

হ্যা, কাঠ বাদাম খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে এটা নির্ভর করে, আপনি কি পরিমাণ কাঠ বাদাম খাচ্ছেন সেটার উপর। কাঠ বাদাম উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত হলেও এটি খাওয়ার পর ক্ষুধার অনুভূতি অনেকক্ষণ কম থাকে। বাদামে থাকা পুষ্টি উপাদান শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 

তবে এটা অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। বেশি পরিমাণে খেলে পেট খারাপ হওয়ার সাথে সাথে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

কাঠ বাদাম পাতা যে কাজে ব্যবহার করা হয়

কাঠ বাদাম পাতা বিভিন্ন ভেষজ ও ব্যবহারিক কাজে ব্যবহৃত হয়। এই পাতায় অনেক ঔষধি গুণাবলী রয়েছে। কাঠ বাদামের পাতা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রূপচর্চা ব্যবহৃত হয় এবং জৈব সার হিসেবে বা পরগাছা প্রতিরোধে এই পাতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 


তবে কাঠ বাদামের পাতা আরো একটি বিশেষ কাজে ব্যবহৃত হয়। যারা অ্যাকুরিয়ামে শখের মাছ পালন করে তারা ব্যবহার করে এই কাঠ বাদাম পাতা। কাঠ বাদাম পাতা অ্যাকুরিয়ামের মাছের জন্য অনেক উপকারি। বিশেষ করে ফাইটার মাছের জন্য। এই পাতা পানির pH লেভেল কমাতে সাহায্য করে এবং মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফাইটার মাছের প্রজননের সময়ও এই পাতা ব্যবহার করা হয়। 

কাদের জন্য কাঠ বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত 

আমাদের শরীরের জন্য কাঠ বাদাম অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটাও এড়িয়ে চলা উচিত। কাদের কে কাঠ বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত, সে সম্পর্কে জানবো আমরা। যারা নিচের সমস্যা গুলোর মধ্যে এক বা একাধিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের কাঠ বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত। 

  • বাদামে এলার্জি – অনেকের বাদামে এলার্জি রয়েছে। যাদের বাদাম খেলে এলার্জি সমস্যা হয়, তাদেরকে কাঠ বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত। 
  • ডায়রিয়া বা হজম জনিত সমস্যা – কাঠ বাদামে ফাইবার অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে। যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ডায়রিয়া বা পেটে গ্যাসের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
  • থাইরয়েডের সমস্যা – কাঠ বাদামে গোইট্রোজেনিক উপাদান থাকে। যা, থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে। 
  • যাদের মাইগ্রেন সমস্যা আছে – গবেষণায় দেখা গেছে, কাঠ বাদামে থাকা বিশেষ কিছু অ্যামাইনো অ্যাসিড মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়াতে পারে।
  • উচ্চ অক্সালেট সংবেদনশীলতা – কাঠ বাদামে অক্সালেট নামক এক ধরনের উপাদান থাকে। যা, বেশি খেলে কিডনিতে পাথর তৈরী হতে পারে। 

আপনার যদি উপরে উল্লেখিত সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি বা একাধিক সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে আপনার কাঠ বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত  অথবা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত 

কাঠ বাদামের বাজারদর ২০২৫

আমাদের দেশে কাঠ বাদাম একটি জনপ্রিয় পুষ্টিকর ফল। এর বাজারদর বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমন, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ, আমদানি খরচ, ইত্যাদি। 


কাঠ বাদামের বাজারদর ওঠানামা করে। আমাদের দেশে ২০২৪ সালে কাঠ বাদামের দাম ২৫০০ - ৩৫০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। 
২০২৫ সালে কাঠ বাদামের সঠিক দাম বলাটা কঠিন। কারণ এটা যেকোনো সময় কম-বেশি হতে পারে। তবে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রবণতা বিবেচনায় এবছর এর দাম কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া স্থান ও কাঠ বাদামের গুনগত মানের ভিন্নতার কারনেও দামের ভিন্নতা দেখা দেয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এখানে কমেন্ট করুন

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪