তাইওয়ানের বিখ্যাত হাঁসের ডিমের কুসুম পেস্ট্রি তৈরি হয় যেভাবে

হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুণ 

হাঁসের ডিম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। হাঁসের ডিমে অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। 

হাঁসের ডিমে যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে 

  • প্রোটিন – হাঁসের ডিমে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে প্রায় ১২-১৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে।
  • ভিটামিন – হাঁসর ডিমে ভিটামিন-B12, ভিটামিন-A, ভিটামিন-D রয়েছে। 
  • মিনারেল – হাঁসের ডিমে মিনারেলের মধ্যে সেলেনিয়াম এবং জিঙ্ক রয়েছে। 
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড – হাঁসের ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। 
  • কোলেস্টেরল – হাঁসের ডিমে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে।


হাঁসের ডিম খাওয়ার উপকারিতা সমূহ

  1. শক্তি বৃদ্ধি করে
  2. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় 
  3. ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সহায়তা করে
  4. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  5. রক্তস্বল্পতা দূর করে
  6. ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে
  7. দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে
  8. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় 

হাঁসের ডিমের পেস্ট্রি তৈরির রেসিপি 

তাইওয়ানে হাঁসের ডিমের এই পেস্ট্রি রেসিপি ৬০০ বছরের পুরনো এবং খুবই বিখ্যাত। আজকে আমরা এই রেসিপি সম্পর্কে জানবো। যারা এটি খেয়েছেন, তারা এর স্বাদ কখনোই ভোলেননি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, তাইওয়ানে কিভাবে এই সুস্বাদু হাঁসের ডিমের পেস্ট্রি তৈরী করা হয়ঃ


প্রথমে হাঁসের ফার্ম থেকে ডিম সংগ্রহ করা হয়। ডিম সংগ্রহ করে পিক-আপ ভ্যানে করে ফ্যাক্টরিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এবার, একটি ড্রামের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে লাল মাটির গুড়ো এবং কেজি খানিক লবন ও পানি মিশিয়ে ভালোভাবে মিক্সচার মেশিন দিয়ে মিক্স করে নিতে হবে। প্রস্তুতকৃত মাটির ডো এর মধ্যে এবার হাঁসের ডিম গুলো ডোবানো হবে এবং ডিমের গায়ে ভালোভাবে মাটির ডো লাগিয়ে দিতে হবে। এরপর কাদামাটি যুক্ত ডিম গুলো একটা খাচিতে পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে মুড়িয়ে রাখতে হবে ২০ দিনের জন্য। ২০ দিন পর মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে ধুয়ে ডিম গুলোকে ভালো পরিষ্কার করা হয়। ভালোভাবে ধুয়ে প্রস্তুতকৃত ডিমগুলো এবার পেস্ট্রি তৈরির উপযোগী। 

বড় একটি পাত্র নিয়ে এরমধ্যে ডিমগুলো ভেঙে রাখতে হবে। ডিমগুলোতে ২০ দিন লবনাক্ত কাদামাটির প্রলেপ থাকায় এর ভেতরের কুসুম শক্ত এবং লাভার লাল রঙের হয়ে যায়। সব ডিম ভেঙে নেওয়া হয়ে গেলো পাত্র থেকে ছাকনির সাহায্যে ডিমের সাদা অংশ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কুসুম গুলোকে আলাদা করা হয়। কুসুম আলাদা করা হয়ে গেলে সেগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া হয়। এবার একটি ট্রেতে ডিমগুলি রাখা হয় এবং এর উপরে হালকা করে কুকিং ওয়াইন স্প্রে করে দেওয়া হয়। এবার এই ট্রে টা কিছুক্ষণের জন্য ওভেনে দেওয়া হয়, ফলে কুসুম গুলো একটু শক্ত অবস্থায় আসে। 


এবার, ময়দার সাথে হালকা ঘি এবং পানি দিয়ে ভালোভাবে মিক্স করে নিতে হবে। এখন প্রয়োজন হবে চকলেটের। এবার ময়দার ডো এরমধ্যে চকলেট এবং ডিমের কুসুম দিয়ে গোল করে দিতে হবে। এভাবে সবগুলো ডিমের কুসুম কে প্রস্তুত করা হয়ে গেলে ট্রেতে সাজিয়ে নিতে হবে। একটা কাচা ডিম ভেঙে প্রস্তুতকৃত ডিম গুলোর উপরে হালকা ব্রাশ করে দিতে হবে। এবার এর উপর কিছুটা তিল দেওয়া হয়। সবশেষে ওভেনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বেক করার জন্য। এভাবেই প্রস্তুত করা ৬০০ বছরের পুরনো তাইওয়ানের বিখ্যাত হাঁসের ডিমের পেস্ট্রি। যা তাইওয়ান সহ আশপাশে বেশ বিখ্যাত। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এখানে কমেন্ট করুন

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪